ADSTERA

যেসব অভিযোগে শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল — বিস্তারিত রিপোর্ট


শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ে যে পাঁচটি গুরুতর অভিযোগের ভিত্তিতে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে, তার বিস্তারিত বিশ্লেষণ। আন্দোলনকারীদের হত্যাকাণ্ড, উসকানি, প্রাণঘাতী শক্তির নির্দেশ ও মানবতাবিরোধী অপরাধসহ সব অভিযোগ এক নজরে।

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (ICT) যে মামলায় মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেছে, সেই রায়ের প্রধান অভিযোগগুলো নিয়ে নিচে পূর্ণাঙ্গ সারসংক্ষেপ তুলে ধরা হলো। রায়ের মধ্যে মোট পাঁচটি বড় অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে, যেগুলোর ভিত্তিতে এই শাস্তি নির্ধারণ করা হয়েছে।


১. আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্য

ট্রাইব্যুনাল রায়ে বলেছে, শেখ হাসিনা শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে “রাজাকার” বলে মন্তব্য করেছিলেন। আদালতের মতে, এটি ছিল উসকানিমূলক ও উত্তেজনা সৃষ্টিকারী বক্তব্য।
এছাড়া তিনি দলীয় নেতাকর্মী ও ছাত্রসংগঠনগুলোকে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দেন।


২. প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহারের নির্দেশ

রায়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশে বলা হয়েছে—
শেখ হাসিনা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রাণঘাতী অস্ত্র, যেমন– গুলি, ড্রোন, এবং কঠোর শক্তি ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছিলেন।
আদালত এটিকে “command responsibility” হিসেবে বিবেচনা করে— অর্থাৎ, তার অধীনস্থ বাহিনী তার নির্দেশে বা তার জ্ঞানে এই ঘটনাগুলো ঘটিয়েছে।


৩. ছাত্র নেতা আবু সয়্যদ হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগ

এ মামলার একটি গুরুতর অভিযোগ হলো—
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সয়্যদ হত্যাকাণ্ডে শেখ হাসিনার নির্দেশ, সহায়তা ও উসকানি প্রমাণিত হয়েছে বলে ট্রাইব্যুনাল জানায়।
এই হত্যাকাণ্ডটি তার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অংশ হিসেবে ধরে নেওয়া হয়।


৪. চাঁখারপুলে আন্দোলনকারীদের হত্যা

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ঢাকার চাঁখারপুল এলাকায় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডও রায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সেদিন ছয়জন নিরস্ত্র শিক্ষার্থী নিহত হন। আদালত বলেছে, শেখ হাসিনার নির্দেশ, অনুমোদন বা জ্ঞানের মধ্যেই এই ঘটনা ঘটেছে।


৫. গুলির পর মৃতদেহ পোড়ানোর অভিযোগ

রায়ে আরও উল্লেখ রয়েছে—
পাঁচজন আন্দোলনকারীকে গুলি করে হত্যার পর তাদের দেহ পোড়ানো হয়
ট্রাইব্যুনাল এটিকে পরিকল্পিত, সুসংগঠিত অত্যাচার হিসেবে চিহ্নিত করেছে এবং এর সাথে শেখ হাসিনার অংশগ্রহণ বা সহায়তা প্রমাণিত হয়েছে বলে জানিয়েছে।


কেন মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলো?

রায়ের সারমর্ম অনুযায়ী—

  • অভিযোগগুলোকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে ধরা হয়েছে।

  • বেশ কিছু হত্যাকাণ্ডে তার সরাসরি নির্দেশ বা জ্ঞানের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

  • আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তার নির্দেশে প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহার করেছে— এটিকে আদালত “গুরুতর কমান্ড ব্যর্থতা ও অপরাধ” হিসেবে বিবেচনা করেছে।

সবকিছু মিলিয়ে, আদালত সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করে।


উপসংহার

এই ঐতিহাসিক রায় বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় ধরনের পরিবর্তন ও বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। রায়ের পূর্ণাঙ্গ নথি প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে দেশজুড়ে সাধারণ মানুষ, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো।



Sheikh Hasina death sentence, Sheikh Hasina tribunal verdict, Bangladesh politics news, ICT verdict Bangladesh, Hasina crimes against humanity, Sheikh Hasina charges, Bangladesh student protest killings, Hasina trial news, Bangladesh breaking news, political crisis Bangladesh, Sheikh Hasina latest update, Bangladesh human rights news, tribun

No comments

Powered by Blogger.